বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

খামেনির মৃত্যুতে ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

খামেনির মৃত্যুতে ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন?

ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলায় নিহত হওয়ার পর দেশটির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবল কৌতূহল ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। শনিবার ভোরে তেহরানের নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করার সময় তিনি হামলার শিকার হন বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। 

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ইরানের শাসনক্ষমতা কার হাতে ন্যস্ত হবে এবং দেশটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। তেহরানের পক্ষ থেকে এই আক্রমণকে কাপুরুষোচিত বলে অভিহিত করা হলেও পরবর্তী কাণ্ডারি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে বা তিনি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার সাময়িকভাবে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিলের হাতে চলে যায়। 

এই কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত থাকেন দেশের রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মগুরু। এই তিনজনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবেন এবং নতুন নেতা নির্বাচনের যাবতীয় প্রক্রিয়া তদারক করবেন। তবে উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানিকে বিশেষ কর্তৃত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা ইঙ্গিত দিয়েছে।

এর আগে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, খামেনি নিজেই তার অবর্তমানে বা কোনো গুপ্তহত্যার ঘটনা ঘটলে দেশ পরিচালনার জন্য আলী লারিজানিকে দায়িত্ব দেওয়ার একটি অলিখিত নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন। তেহরানের শাসনব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে এবং ক্ষমতার শূন্যতা এড়াতে তিনি চার স্তরের একটি উত্তরাধিকার পরিকল্পনাও প্রণয়ন করেছিলেন বলে জানা যায়। 

এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল শীর্ষ কোনো কর্মকর্তা নিহত হলে বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে পরবর্তী দায়িত্বশীলকে সামনে আনা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, লারিজানি ছাড়াও বর্তমানে নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছেন ইরানের বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। খামেনির অত্যন্ত বিশ্বাসভাজন এই নেতাদের মধ্য থেকেই কেউ একজন তেহরানের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হতে পারেন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।