মার্চ ১, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুসংবাদ পাঠ করতে গিয়ে সরাসরি সম্প্রচারেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক উপস্থাপক। রোববার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-তে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির প্রয়াণের ঘোষণা দেওয়ার সময় এই আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়। সংবাদ পাঠের একপর্যায়ে ওই উপস্থাপকের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে এবং তাকে বারবার চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।
এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো ইরানজুড়ে শোকের আবহ আরও ঘনীভূত হয়। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সামরিক কর্মকর্তারাও এই দৃশ্য দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
খামেনির মৃত্যুতে ইরান সরকার ইতিমধ্যেই ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়ে দেশটির জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং সব ধরনের আনন্দ উৎসব ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে এখন খামেনির জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর বিশেষ তথ্যচিত্র ও স্মরণসভা প্রচার করা হচ্ছে।
শনিবার তেহরানে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলার পর থেকেই তার জীবন নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত রোববার সকালে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নেতার শাহাদাত বরণের খবর নিশ্চিত করার পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।এদিকে খামেনির মৃত্যুকে ‘ন্যায়বিচার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন যে, খামেনি তাদের অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি।
তিনি এই ঘটনাকে ইরানের জনগণের জন্য দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবেও অভিহিত করেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরানের অনেক নিরাপত্তা সদস্য এখন আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন। তবে খামেনির এই আকস্মিক প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অনিশ্চয়তা ও নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। তেহরানের রাজপথ এখন শোকাতুর জনতার দখলে, যারা তাদের প্রিয় নেতার প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন এবং পাল্টা ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন