মার্চ ১, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
ইসরায়েলি বিমানবাহিনী দাবি করেছে যে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ১ হাজার ২০০টিরও বেশি বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক স্থাপনাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে সরাসরি বোমা হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিরীহ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও অন্তত ৯৫ জন দগ্ধ ও গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, কোমলমতি শিশুদের ওপর এ ধরনের নৃশংস আক্রমণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং এর কঠিন জবাব দেওয়া হবে।
এই ধারাবাহিক ও শক্তিশালী বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পাশাপাশি দেশটির শীর্ষস্থানীয় আরও বেশ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিহত হয়েছেন।
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং খামেনির প্রধান নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানি এই অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির প্রভাবশালী প্রধান মোহাম্মদ পাকপুরও নিহতদের তালিকায় রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন একযোগে প্রস্থান এক বিশাল ও অপূরণীয় জাতীয় ক্ষতি। বর্তমানে পুরো ইরানজুড়ে চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন