মার্চ ১, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮ জন। করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক এই হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মূলত খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সময় রোববার বিক্ষোভকারীরা করাচির এম টি খান রোডে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায় এবং নিরাপত্তাকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্স দ্রুত অ্যাকশনে যায় এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এরপরই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরবর্তী সহিংসতা ঠেকাতে ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ ও রেঞ্জার্স মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই অঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সিন্ধু প্রাদেশিক সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল হাসান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি করাচির অতিরিক্ত আইজির কাছে এই হামলার ঘটনার বিস্তারিত এবং বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি করাচিসহ পুরো সিন্ধু প্রদেশের স্পর্শকাতর ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
সূত্র: ডন ও জিও নিউজ


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন