মার্চ ২, ২০২৬, ১১:০৭ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহতের সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর পাকিস্তানজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, করাচি, স্কারদু এবং রাজধানী ইসলামাবাদসহ বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
করাচিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেখানে সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক মানুষ। বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের সামনে জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেন এবং পুলিশের একটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন।
উত্তরের শহর স্কারদুতে সহিংসতা চরম রূপ নিলে সেখানে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় শহরটিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজধানী ইসলামাবাদেও হাজার হাজার মানুষ উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত রেড জোনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে সেখানে আরও দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। লাহোর ও পেশোয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।বর্তমান পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় পাঞ্জাব সরকার এবং ইসলামাবাদ প্রশাসন পুরো এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। লাহোরে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরেও কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনের এই উত্তাপ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন