শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

মধ্যপ্রাচ্যে অনন্তকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০৯:২৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে অনন্তকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পঞ্চম দিনে সংঘাতের ভয়াবহতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্র অনন্তকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন সামরিক বিশেষজ্ঞরা মার্কিন অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। 

ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনির্দিষ্টকাল লড়াই করার মতো পর্যাপ্ত সমরাস্ত্র রয়েছে। এর আগে তিনি যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা বললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যুদ্ধের গত পাঁচ দিনে ইসরাইল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শুধুমাত্র বুধবারের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন। লেবাননে ইসরাইলের আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় ছয় মার্কিন সেনাসহ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইরানে টানা ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে তেহরান।রণক্ষেত্র এখন কেবল ইরান বা ইসরাইলে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। বুধবার সকালে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই শোধনাগারটি সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস। 

হামলার পর প্ল্যান্টটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তুরস্কের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সামরিক জোট ন্যাটো তা মাঝপথে ধ্বংস করে দেয়। হরমুজ প্রণালিতে কন্টেইনারবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার পর ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।

ভারত মহাসাগরেও যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রীলঙ্কা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিন টর্পেডো দিয়ে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে ওই হামলায় অন্তত ৮০ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন। পেন্টাগন দাবি করেছে যে তারা ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের পুরো আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তেহরান অবশ্য পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাফ জানিয়েছেন যে তারা দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইচ্ছাই তাদের নেই। এদিকে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে খামেনির পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে যার নামই আসুক না কেন তাকে নির্মূল করা হবে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরাইলি সেনারা অভিযান জোরদার করেছে যার ফলে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। সব মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত ও বিধ্বংসী পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।