মার্চ ৫, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
দক্ষিণ এশিয়ার পার্বত্য দেশ নেপালে নতুন সংসদ গঠনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক গণআন্দোলনের মুখে গত বছর সরকার পতনের ছয় মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হিমালয় অঞ্চলের প্রায় তিন কোটি মানুষের এই দেশে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
২০০৬ সালের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এবারের নির্বাচনকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই ভোটকে মূলত পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শক্তিশালী তরুণ আন্দোলনের মধ্যে এক উচ্চঝুঁকির লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত বিভিন্ন স্থিরচিত্রে দেখা গেছে কাঠমান্ডুসহ নেপালের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এবারের নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছেন।
উল্লেখ্য যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন জি তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ভয়াবহ গণআন্দোলনের পর থেকেই দেশটিতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে। ওই আন্দোলনে কমপক্ষে ৭৭ জন নিহত হয়েছিলেন এবং নেপালি প্রতিনিধি পরিষদ ভবনসহ সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরবর্তীতে দুর্নীতি ও দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণঅসন্তোষে রূপ নেয়।
নির্বাচনকে সামনে রেখে নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি দেশের জনগণকে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে হাজার হাজার পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নেপালি সংসদের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ২৭৫টি আসনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ১৬৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন।
বাকি ১১০টি আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা দলীয় তালিকার ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের ওপর নির্ভর করে বণ্টন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাম প্রসাদ ভান্ডারি জানিয়েছেন যে সরাসরি নির্বাচনের প্রাথমিক ফল পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ হতে পারে। তবে আনুপাতিক পদ্ধতির ফলাফল চূড়ান্ত হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
ক্ষমতার এই লড়াইয়ে নেপালের রাজনীতিতে মূলত তিনটি ধারা এখন সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। একদিকে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাচ্যুত মার্কসবাদী নেতা কে পি শর্মা অলি। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও র্যাপার-রাজনীতিক বালেন্দ্র শাহ বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এছাড়া নেপালের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের নেতা গগন থাপার দিকেও নজর রয়েছে অনেকের।
৭৪ বছর বয়সী অলি নিজের এলাকা ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী শাহ। শাহ তার প্রচারণায় `ঘণ্টা` প্রতীকে ভোট দিয়ে দীর্ঘদিনের পুরোনো রাজনীতির চক্র ভাঙার ডাক দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে নেপাল কি প্রবীণ নেতৃত্বের হাতেই থাকবে নাকি জেন জি প্রজন্মের নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচিত হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন