বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২০০ কোটি মার্কিন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ১১:২১ এএম

ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ২০০ কোটি মার্কিন ডলার

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা

ইরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টাহামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারে। গত কয়েক দিনের টানা উত্তজেনার মধ্যে কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক মিশনে একের পর এক আঘাত হেনেছে তেহরান। 

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক সাম্প্রতিক জরিপে এই বিপুল আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে গত ৩ মার্চ পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম, যুদ্ধবিমান এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হারিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি। সেখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেমটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। 

কাতার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এই একক রাডারটির বাজার মূল্য ছিল অন্তত ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলবশত ছোড়া গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ স্ট্রাইকিং ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ছয়জন পাইলট প্রাণে বেঁচে গেলেও বিমানগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ায় প্রায় ২৮২ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে পেন্টাগনের।ইরানের প্রাথমিক পর্যায়ের হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

সেখানে দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুয়াইস শিল্পনগরীতে মোতায়েন করা থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থার রাডার উপাদান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক ক্ষতির পরিমাণ ১.৯০২ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। 

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন সফলভাবে আঘাত হেনেছে। কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেল ভবনের পাশের পার্কিং লটে সন্দেহভাজন ইরানি ড্রোনের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। একই সাথে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তাদের জনবল হারানোর ঝুঁকিতেও রয়েছে।