মার্চ ৫, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। রাজধানী সিউল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এই সংঘাতের প্রভাবে কোরিয়ার শেয়ারবাজারে যে পরিমাণ দরপতন ঘটেছে তা ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পরবর্তী সময়ের চেয়েও ভয়াবহ।
একই সঙ্গে দেশটির স্থানীয় মুদ্রা কোরীয় উন মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে যা এশিয়ার এই অর্থনৈতিক পরাশক্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেই পররাষ্ট্র এবং অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং মুদ্রার মান স্থিতিশীল করতে প্রেসিডেন্ট প্রায় ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি বিশেষ জরুরি স্থিতিশীলতা তহবিল সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই অর্থ মূলত শেয়ারবাজারের ধস ঠেকানো এবং কোরীয় উনের মান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল আমদানির উৎস বৈচিত্র্যপূর্ণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বেইজিং বা টোকিওসহ অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও একই সময়ে বিকল্প উৎসের সন্ধান করায় এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে জাহাজ চলাচলের বীমা ও পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই সংকটময় মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার শিপিং কোম্পানিগুলোকে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লি। বর্তমানে পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিউল তাদের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন