বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০১:২০ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হুমকিকে প্রশ্রয় দেবে না ইরাক

ইরাক-ইরান সম্পর্ক

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল সুদানি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার হুমকি বা সামরিক তৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরাকের এই অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

টেলিফোনে আলাপকালে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি শাহাদাৎবরণকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি আব্বাস আরাঘচিকে নিশ্চিত করেন যে, ইরাক সরকার তার সার্বভৌম সীমানা এবং ভূখণ্ডকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আগ্রাসনের জন্য ব্যবহার করতে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ইরাকের এই ঘোষণা তেহরানকে কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে অনেকটা স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল সুদানি। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর এ ধরনের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির চরম লঙ্ঘন। তিনি এই আগ্রাসনকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এমন প্রকাশ্য সমর্থন ও নিন্দা জানানোর বিষয়টিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি ইরাক সরকারের এই বন্ধুপ্রতিম আচরণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাক ও ইরানের মধ্যকার এই কূটনৈতিক বোঝাপড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। ইরাক দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তারা প্রতিবেশী ইরানের পাশেই থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই আলোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাগদাদের এই অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে। সামগ্রিকভাবে, ইরাকের এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের ওপর নতুন কোনো চাপ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।