মার্চ ৬, ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা ও যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও বেড়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে এই মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বাড়তে থাকায় দুবাইসহ আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার সকালে স্বর্ণের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পায়। এর আগে বৃহস্পতিবার বড় ধরণের পতন হলেও শুক্রবার বাজার খোলার সাথে সাথেই প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ৬ দিরহামের বেশি বেড়েছে বলে খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
দুবাইয়ের বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায় শুক্রবার সকালে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি গ্রামের দাম দাঁড়িয়েছে ৬১৮ দিরহাম। বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধ হওয়ার সময় এর দাম ছিল ৬১১ দশমিক ৫০ দিরহাম। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ দিরহাম।
এছাড়া অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ৫৭২ দশমিক ২৫ দিরহাম, ২১ ক্যারেট ৫৪৮ দশমিক ৭৫ দিরহাম এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ৪৭০ দশমিক ২৫ দিরহামে লেনদেন হচ্ছে। নিম্ন মানের ১৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৩৬৭ দিরহামে।
শুধু দুবাই নয় আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটেও স্বর্ণ ও রুপার দাম ঊর্ধ্বমুখী। শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১১৯ দশমিক ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে রুপার দাম ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৩ দশমিক ৮৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন তেলের দাম বাড়তে থাকায় মুদ্রাস্ফীতি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সেঞ্চুরি ফাইন্যান্সিয়ালের তথ্য অনুযায়ী চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং শক্তিশালী ডলার স্বর্ণের দামের জন্য ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে অস্থির বাজারে বিনিয়োগকারীরা সবসময় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে থাকায় স্বর্ণের চাহিদা আপাতত হ্রাসের সম্ভাবনা কম। এদিকে গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ তাদের মজুদ থেকে কিছু স্বর্ণ কমালেও চলতি বছরে তাদের মোট নিট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার আউন্সে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে এমন অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন