মার্চ ৭, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে গত কয়েক দিনে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ইরানের অন্তত ৪২টি নৌযান ধ্বংস করেছে। ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য উল্লেখ করে বলেন, নৌবাহিনীর পাশাপাশি ইরানের বিমান বাহিনীর বড় অংশ এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, শুরুতে মার্কিন সামরিক অভিযান কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল, কারণ তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।
ট্রাম্প এই সামরিক অভিযানকে পুরো বিশ্বের জন্য একটি বিশেষ ‘সেবা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইরানকে কোণঠাসা করে যুক্তরাষ্ট্র অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। নিজের দেশের সামরিক অগ্রগতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি জানান, শূন্য থেকে ১০ এর স্কেলে এই অভিযানের মান হবে ১৫।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, এই লড়াই কেবল মধ্যপ্রাচ্যের স্বার্থে নয়, বরং বিশ্ব শান্তি রক্ষার তাগিদে পরিচালিত হচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানি যেসব সামরিক নেতা নিহত হয়েছেন, তাদের ‘অসুস্থ মানুষ’ হিসেবেও মন্তব্য করেন তিনি।হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প শিগগিরই ডোভার এয়ার ফোর্স বেস পরিদর্শন করবেন। সেখানে ইরান-সংঘাতের ঘটনায় নিহত ছয় মার্কিন সেনা সদস্যের মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় তিনি অংশ নেবেন। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে উত্তেজনার মাঝে এটি মার্কিন বাহিনীর জন্য এক বড় ধরনের শোকের সংবাদ।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও তাদের সাফল্যের দাবি তুলে ধরেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত রাতে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরসহ রাজধানীর বিভিন্ন অংশে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়েছে।ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের অন্তত ১৬টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী মনে করে, মেহরাবাদ বিমানবন্দরটি লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
তবে আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলো এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও এসব ধ্বংসযজ্ঞ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন