মার্চ ১০, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়ে আরও শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যায় উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের নতুন এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড বা যুদ্ধাস্ত্রের ওজন এক টনেরও বেশি।
এর আগে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ওয়াশিংটন যে দাবি করেছিল, আইআরজিসি সেটিকে পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে ইরানের এই সামরিক তৎপরতার জবাবে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজ চলাচলে কোনো প্রকার বিঘ্ন ঘটায় বা পথ বন্ধ করে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ২০ গুণ বেশি কঠোরভাবে ইরানে আঘাত হানবে।
তবে এই হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছিলেন যে চলমান এই যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন পরস্পরবিরোধী ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন এখন ইরানের এই পাল্টা প্রতিরোধের মুখে তাদের পরবর্তী সামরিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে ইরান তাদের হামলার পরিধি আরও বাড়িয়েছে।
বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এসব হামলায় একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। এছাড়া মধ্য ইসরায়েলে হওয়া পাল্টা হামলায় আরও দুইজনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন