সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ১০ দিনে কোন দেশে কত প্রাণহানি হলো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ১০ দিনে কোন দেশে কত প্রাণহানি হলো?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আজ দশম দিনে পদার্পণ করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর সাথে ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে বিপুল প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের তালিকায় সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি নারী ও শিশুসহ বহু সাধারণ মানুষ রয়েছেন। 

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে ইরান। দেশটিতে গত ১০ দিনে সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে অন্তত ১ হাজার ২৩২ জন নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রথম দিনে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী ও কর্মচারী নিহত হওয়ার ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। 

এছাড়া উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে আরও ১০৪ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

লেবানন ও ইসরায়েলেও নিহতের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় সেখানে ৩৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ৮৩ জনই শিশু। অন্যদিকে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর সাথে উত্তর সীমান্ত সংঘর্ষে তাদের দুই সেনার মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করেছে তেল আবিব। 

যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে তাদের সাতজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। যদিও ইরান দাবি করছে যে এই যুদ্ধে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের রেশ এখন কেবল যুদ্ধরত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতেও।এই যুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর খবরটি বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সৌদি আরবের রিয়াদের নিকটবর্তী আল-খার্জ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় প্রজেক্টাইল পড়লে সেখানে দুইজন বাংলাদেশি নিহত হন। বাহরাইনে সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ধ্বংস হওয়া ইরানি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ মাথায় পড়ে আবুল মহসিন নামে এক বাংলাদেশি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চারজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। 

কুয়েত এবং ওমানেও হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা কর্মী।ইরাক ও সিরিয়াতেও সংঘাতের তীব্রতা প্রতিদিন বাড়ছে। ইরাকে ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং দেশটিতে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কমান্ডার বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। সিরিয়ার সোয়েইদা শহরে একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। 

সব মিলিয়ে ১০ দিনের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র জুড়ে লাশের মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও ক্রমবর্ধমান আহতের সংখ্যা বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।