মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ বেঁচে আছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় স্বামীর সঙ্গে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও বৃহস্পতিবার সেই তথ্য ভুল বলে দাবি করেছে বার্তা সংস্থা ফার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মানসুরেহ বাগেরজাদেহ বিমান হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন তবে তিনি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মৃত্যুর খবরটি মূলত প্রাথমিক আঘাতের তীব্রতা ও তথ্যের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছিল যে হামলার পর তিনি গভীর কোমায় রয়েছেন। পরবর্তীতে ফার্স নিউজ মৃত্যুর গুজব নাকচ করে দিলে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
গত সোমবার ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে বাবার মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করলেও মায়ের বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মায়ের মৃত্যুর খবর সঠিক না বলেই মোজতবা তার বক্তব্যে এই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। মাশহাদের একটি রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা মানসুরেহ ১৯৬৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আলী খামেনিকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিনি ছিলেন খামেনির রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রধান সঙ্গী।
উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনির বাসভবনে ভয়াবহ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়েছে। ওই হামলার পর থেকেই ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বাবার মৃত্যুর পর দেওয়া প্রথম লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি খামেনির মরদেহ দেখার স্মৃতিচারণ করলেও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিশদ কোনো তথ্য দেননি। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন নিশ্চিত করছে যে মানসুরেহ বাগেরজাদেহ বেঁচে আছেন যদিও তার শারীরিক সংকট এখনো কাটেনি। এই ঘটনার পর ইরান প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও জোরদার করেছে যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন