বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হামলার পরেও যেভাবে প্রাণ বাঁচে মোজতবা খামেনির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৭, ২০২৬, ০১:০৫ পিএম

হামলার পরেও যেভাবে প্রাণ বাঁচে মোজতবা খামেনির

হামলার পরের ধ্বংসস্তূপ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে ইসরায়েলি ও মার্কিন যৌথ বাহিনীর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আলী খামেনি নিহত হলেও তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি কীভাবে প্রাণে বেঁচেছেন, তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের হাতে আসা এক গোপন অডিও রেকর্ডিং থেকে জানা যায় যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে নয়টার দিকে যখন ইসরায়েলি ব্লু স্প্যারো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানে আঘাত হানে, তার ঠিক কয়েক মিনিট আগে মোজতবা খামেনি বাগানে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। 

এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণেই তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান বলে অডিওতে দাবি করা হয়েছে।আলী খামেনির দপ্তরের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনির একটি ঘরোয়া আলোচনার অডিও রেকর্ডিং থেকে এই বিবরণ পাওয়া গেছে। 

সেখানে জানানো হয় যে হামলায় মোজতবা খামেনির পায়ে সামান্য চোট লাগলেও তার স্ত্রী হাদ্দাদ এবং তাদের পুত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হোসেইনি সেই অডিওতে উল্লেখ করেন যে আল্লাহর বিশেষ ইচ্ছাতেই মোজতবা সেই মুহূর্তে ভবনের ভেতরে ছিলেন না। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে খামেনির বাসভবনের একাংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। 

হামলায় মোজতবার শ্যালক মিসবাহ আল-হুদা বাগেরি কানির মাথা দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় এবং তার বাড়িটিও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।ফাঁস হওয়া ওই রেকর্ডিংয়ে ইরানের সামরিক দপ্তরের প্রধান মোহাম্মদ শিরাজির মৃত্যু নিয়ে এক বিভীষিকাময় বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। হোসেইনির দাবি অনুযায়ী ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানত যে সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি শিরাজির কাছেই সামরিক বাহিনীর সমস্ত গোপন তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে তাকে লক্ষ্য করেও সুনির্দিষ্টভাবে হামলা চালানো হয়। 

হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে শিরাজির মরদেহের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং পরবর্তীতে কয়েক কেজি অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে মোজতবার ভাই মোস্তাফা এবং তার স্ত্রী পাশের একটি ভবনে থাকায় কেবল ধুলো ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক বক্তব্যে মোজতবার জীবিত থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি তেহরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডারদের কাছেও তাদের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার সঠিক অবস্থান সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই বলে জানা গেছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই অডিও ফাঁস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।