মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারিকে হত্যার প্রতিক্রিয়া হবে চূড়ান্ত এবং ইসরায়েলের জন্য তা অত্যন্ত অনুশোচনাযোগ্য হবে। তেহরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার এমন ঘোষণা এই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি বুধবার দুপুরেই একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে যে শহীদ আলী লারিজানি ও তাঁর সঙ্গীদের হত্যার রক্তের বদলা নিতে তারা ইতোমধ্যে মধ্য ইসরায়েলে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই অভিযান কেবল শুরু এবং শত্রুপক্ষের প্রতিটি আঘাতের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোঁড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই হামলায় ইসরায়েলের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের রাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুর ফলে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তেহরান মনে করে এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয় বরং এটি ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ইরানের এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন