মার্চ ২৪, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি নাকচ করে দিয়ে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট শর্তসমূহ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না। সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, ইরান এ যাবৎকালে যে পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, সকল প্রকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না।
এমন আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তেহরান তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে রেজায়ির এই বক্তব্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে ইরান এখন আর কেবল সীমিত প্রতিক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে তাদের বর্তমান রণকৌশল আর প্রচলিত চোখের বদলে চোখ নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি একে মাথার বদলে মাথা হিসেবে অভিহিত করে হুঁশিয়ারি দেন যে মার্কিন বাহিনীকে শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে হবে। রেজায়ি দাবি করেন যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেও ইরানের সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। তার মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত এবং তারা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মোহসেন রেজায়ি একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান যে প্রকৃতপক্ষে এই সংঘাত অন্তত এক সপ্তাহ আগেই শেষের পথে ছিল এবং ওয়াশিংটন তখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। তবে তার অভিযোগ অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি চাপে যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন যে সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায়ের পরই যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছিল যে এই যুদ্ধে তাদের পক্ষে জয়ের কোনো নিশ্চিত পথ খোলা নেই। মূলত মিত্রদের রাজনৈতিক চাপ ও স্বার্থের কারণেই ওয়াশিংটনকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে থাকতে হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইরানের এমন অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন