মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম বারবার সামনে আসছে। ইসলামাবাদ ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার একটি সেতু তৈরির সক্রিয় প্রচেষ্টা শুরু করেছে যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।
গত সপ্তাহে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পাকিস্তান কেবল আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ নয় বরং পক্ষগুলো চাইলে ইসলামাবাদে একটি আনুষ্ঠানিক সংলাপের আয়োজন করতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত এবং ওয়াশিংটনে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থ দেখাশোনা করার কারণে ইসলামাবাদের এই ভূমিকা বেশ বাস্তবসম্মত।
দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের মতে মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের মতে মুনির ইরানকে অনেক ভালো চেনেন যা আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষক ভালি নাসর মনে করেন যে সৌদি আরবের জোরালো সমর্থন ছাড়া পাকিস্তানের একার পক্ষে এই বড় উদ্যোগ সফল করা কঠিন হবে। রিয়াদ সম্ভবত এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নেপথ্য শক্তি হিসেবে জড়িত রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলোও কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও ভৌগোলিক কারণে পাকিস্তান ও তুরস্কের ঝুঁকি অনেক বেশি। ইরানের অস্থিতিশীলতা এই দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলার পাশাপাশি বিশাল শরণার্থী সমস্যার জন্ম দিতে পারে। সংঘাত এখন এমন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে যেখানে সামরিক হামলার ব্যয় ক্রমবর্ধমান এবং কূটনৈতিক বিকল্প অত্যন্ত সীমিত। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষের সাথেই কার্যকর সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তান এখন এই বৈশ্বিক সংকটে সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন