শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

‘জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মার্কিন বাহিনীকে অচল করে দেওয়া হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

‘জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে মার্কিন বাহিনীকে অচল করে দেওয়া হবে’

হুমকি দিচ্ছেন মহসেন রেজায়ি

ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সদস্য মহসেন রেজায়ি এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় পুনরায় হামলা চালানো হলে মার্কিন বাহিনীকে ‘অচল’ করে দেওয়া হবে। 

এমনকি আরব উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ডুবিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা নিউজের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

মহসেন রেজায়ি তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের সময় শেষ হয়ে আসছে এবং এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে নিজেদের উদ্ধার করার জন্য ওয়াশিংটনের হাতে খুব বেশি সময় অবশিষ্ট নেই। তাঁর এই সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। 

ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে কাজ করছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো, যেগুলোর জন্য তেহরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে।ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলাগুলো সংঘটিত হয়েছে। 

ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইসফাহান শহরের কাভেহ স্ট্রিটে অবস্থিত গ্যাস প্রশাসনিক ভবন এবং গ্যাস চাপ নিয়ন্ত্রণ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই স্থাপনাগুলো আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও একে বড় ধরনের উসকানি হিসেবে দেখছে ইরান।

এছাড়া হামলার তালিকায় ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের খোররামশাহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান গ্যাস পাইপলাইনও। সেখানেও বড় ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জায়নবাদী (ইসরায়েল) ও মার্কিন শত্রুরা পরিকল্পিতভাবে ইরানের অর্থনীতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত করতে এই নীল নকশা বাস্তবায়ন করছে। এর বিপরীতে আইআরজিসি তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।