শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

টোঙ্গায় ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ২৪, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

টোঙ্গায় ৭.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

টোঙ্গায় শক্তিশালী কম্পন

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র টোঙ্গায় ৭.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার গভীরে। 

সাধারণত ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের গভীরতা বেশি হলে তার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা কিছুটা কম অনুভূত হয়। এই কম্পনের কেন্দ্র ছিল দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নেইয়াফু থেকে প্রায় ১৫৩ কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্রের তলদেশে। ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের পরপরই দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যালয় উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। 

তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীরে হওয়ায় বড় ধরনের সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। নিউজিল্যান্ডের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে তাদের দেশে এই কম্পনের প্রভাবে সুনামির কোনো হুমকি তৈরি হয়নি। রাজধানী নুকু’আলোফার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় ভবনগুলো প্রবলভাবে কেঁপে উঠলেও কোনো স্থাপনা ধসে পড়ার বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।

টোঙ্গা মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ নামক ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলে অবস্থিত। এই এলাকায় নিয়মিতই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির তৎপরতা দেখা যায়। এর আগে ২০২২ সালে দেশটিতে একটি শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও পরবর্তী সুনামিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ১৭১টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই রাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষই প্রধান দ্বীপ টোঙ্গাট্টাপুতে বসবাস করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর ও প্রশাসন সাধারণ মানুষকে উপকূলীয় এলাকা এড়িয়ে চলার এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।