মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ইরানের রাজধানী তেহরানে পাকিস্তানি দূতাবাসের সন্নিকটে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামাবাদ। শুক্রবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এই বিষয়ে একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছে।
বিবৃতিতে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে যে, ইসরায়েল যেন মনে রাখে পাকিস্তান কোনোভাবেই কাতার নয়। আমাদের কোনো কূটনীতিক বা দূতাবাসের সামান্যতম ক্ষতি হলেও তার পরিণাম হবে ভয়াবহ এবং পাকিস্তান এর দাঁতভাঙা জবাব দিতে দ্বিধাবোধ করবে না।
গত বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান আক্রমণে পাকিস্তানের দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূতের বাসভবন প্রচণ্ডভাবে কেঁপে ওঠে।
যদিও এই ঘটনায় কোনো পাকিস্তানি কূটনীতিক বা কর্মকর্তা হতাহত হননি, তবে বিস্ফোরণের তীব্রতায় দূতাবাসের পাশের ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান যুদ্ধ বর্তমানে ২৮ দিনে গড়িয়েছে এবং প্রতিদিনই নতুন নতুন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের এই কঠোর অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
পাকিস্তান একদিকে ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিলেও অন্যদিকে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদ ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী এবং দুই পক্ষ চাইলে পাকিস্তানে এই আলোচনার আয়োজন করা হতে পারে।
এদিকে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে বড় ধরনের হামলার যে পরিকল্পনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রহণ করেছিলেন, তা আপাতত ১০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের এই কড়া বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন