মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পক্ষ থেকে আবারও একটি লিখিত বার্তা প্রকাশিত হলেও তার জনসমক্ষে না আসা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার এই নতুন বার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ায় ইরাকের ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি।
ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত এবং ইরাকের সুপ্রিম ইসলামিক অ্যাসেম্বলির স্পিকারের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই বার্তাটি একজন ইরাকি কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চলতি বছরের মার্চের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির নামে একাধিক লিখিত বিবৃতি প্রচার করা হলেও এখন পর্যন্ত তাকে সরাসরি কোনো সভা-সমাবেশ বা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক দাবি এই রহস্যকে আরও উস্কে দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, মোজতবা খামেনি হয়তো ইতিমধ্যে মারা গেছেন অথবা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন, যে কারণে তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।তবে তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র কঠোর নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা বর্তমানে জনসমক্ষে আসছেন না।
যুদ্ধের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে বাঁচতেই তিনি আড়ালে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবুও দীর্ঘ সময় ধরে একজন শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি ইরানের ভেতরে ও বাইরে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজতবা খামেনি সশরীরে উপস্থিত হওয়া বা অন্তত একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করা ছাড়া এই গুঞ্জন থামানো কঠিন হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন