মার্চ ৩০, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে নতুন এক কূটনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে, ঠিক তখনই পাল্টা অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের কাছে আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবুধাবি এখন তেহরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছে।
আনোয়ার গারগাশ তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলোর ওপর চালানো হামলার জন্য ইরানকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
যেকোনো রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধের স্পষ্ট গ্যারান্টি চেয়েছে আমিরাত। এছাড়া আক্রমণ না করার নীতির পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ওপর চালানো হামলার জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও জোরালোভাবে সামনে আনা হয়েছে। আমিরাতের শীর্ষ এই কর্মকর্তার অভিযোগ, যুদ্ধ শুরুর আগে তেহরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে বিভ্রান্ত করেছিল এবং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই আগ্রাসন পরিচালনা করেছে।
ইতোমধ্যেই ইরানকে এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে আবুধাবি তাদের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে।অন্যদিকে, তেহরান মনে করছে যে সংযুক্ত আরব আমিরাত শুধুমাত্র মার্কিন ঘাঁটির অবস্থানস্থলই নয়, বরং ইরানবিরোধী যুদ্ধে তাদের ভূমিকা আরও সুগভীর। ইরানের ঊর্ধ্বতন সূত্রগুলো মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে যে, ইরানে কোনো ধরনের স্থল হামলা হলে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলোকেও ব্যাপক আকারে পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে আবুধাবির কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার পর এখন সরাসরি পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানি নেতৃত্ব। তাদের মতে, আরব আমিরাত যুদ্ধে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করছে যা তেহরানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন কেবল সম্মুখ সমর নয়, বরং বড় ধরনের কূটনৈতিক ও আর্থিক লড়াইয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন