মার্চ ৩১, ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই দুই বাজার সম্মিলিতভাবে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ মূলধন হারিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারগুলোর তালিকায় উপরের সারিতে চলে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রটি। মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাই ফাইনান্সিয়াল মার্কেটের সাধারণ সূচক প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, আবুধাবির এবিএক্স জেনারেল সূচক হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।
আর্থিক হিসেবে দেখা গেছে, দুবাইয়ের বাজারে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার এবং আবুধাবিতে এর পরিমাণ ৭৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এই অস্থিরতার প্রভাব কাতার ও বাহরাইনের বাজারেও পড়েছে, যেখানে সূচক যথাক্রমে ৪ ও ৭ শতাংশ কমেছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও সৌদি আরব ও ওমানের বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ সংক্রান্ত অনিশ্চিত বার্তা এবং রণকৌশল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বখ্যাত এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচকও প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি অনেকটা অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত জ্বালানি সরবরাহে সরাসরি বড় সংকটে না পড়লেও দেশটির পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইতিমধ্যে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে, যা দেশটির মোট জিডিপিতে ১৩ শতাংশ অবদান রাখা পর্যটন খাতকে বড় ঝুঁকিতে ফেলেছে। তবে বর্তমান এই মন্দা নিয়ে কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন দুবাইয়ের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ হাইথাম আউন। তিনি মনে করেন, চলমান এই ধস মূলত যুদ্ধকালীন একটি স্বল্পমেয়াদি ধাক্কা। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে আমিরাতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। সূত্র জানায়, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন