বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাপ-কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাপ-কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা

সীমান্তে কড়া নজরদারি

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বিস্তৃত সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ চোরাচালান বন্ধ করতে এক অভিনব এবং বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ। বিশেষ করে যেসব নদীপথ বা জলাভূমি এলাকায় ভৌগোলিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয় সেখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক হিসেবে বিষধর সাপ এবং কুমির ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সীমান্ত সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। 

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে যে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই সীমান্তের অন্তত ১৭৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি বেষ্টিত হওয়ায় সেখানে নিয়মিত নজরদারি চালানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এই ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা নিয়মিত পারাপার করে যা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএসএফ এখন ভীতি নির্ভর নিরাপত্তা কৌশল বা ডিটারেন্স ফার্স্ট পলিসি গ্রহণের কথা ভাবছে। এখানে মূল বিষয়টি হলো সীমান্তে সাপ বা কুমিরের উপস্থিতির ভয় থাকলে সাধারণ মানুষ বা চোরাকারবারিরা ওই পথ ব্যবহার করতে সাহস পাবে না। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে এই পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সরকারি আদেশ বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। 

বিএসএফের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নদীয়া জেলাসহ সম্ভাব্য নদীপথগুলো চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছেন যেখানে এই ধরণের ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। ভারত ও বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই সোনা এবং মাদক চোরাচালান একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। চলতি বছরের শুরুতেই নদীয়া জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে এবং গত বছরের শেষের দিকে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও সংবাদ শিরোনাম হয়েছিল। 

তবে সাপ বা কুমির ব্যবহারের এই বিতর্কিত পরিকল্পনার পাশাপাশি সীমান্ত নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও জোরদার করছে ভারত। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ড্রোন সেন্সর এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার মতো উন্নত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় যুক্ত করা হয়েছে। বিএসএফের এই নতুন ভাবনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এমন বন্যপ্রাণী ব্যবহারের চিন্তা নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। 

মানবাধিকার ও পরিবেশবাদীরা এই ধরণের পরিকল্পনার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব গ্রহণ করে কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়।