এপ্রিল ৭, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কায় ইরানের রাজধানী তেহরানে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক `রেড এলার্ট` জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যকার উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই নতুন সংকটের সূত্রপাত হয়েছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানকে মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত (তেহরান সময়) সময় বেঁধে দিয়েছেন।
গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী এই আল্টিমেটাম বুধবার রাত ১২টায় শেষ হবে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা কোনো অবস্থাতেই `শত্রুপক্ষ` তথা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এই জলপথ উন্মুক্ত করবে না।
ইরানের এই অনড় অবস্থানের পর মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।তেহরানের স্থানীয় প্রশাসন রেড এলার্ট জারির পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে বা আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অনেক সামরিক বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, যোগাযোগ সেতু এবং সামরিক কমান্ড সেন্টারগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলা চালাতে পারে। রাজধানীর আকাশসীমায় ইরানি বিমান বাহিনীর টহল এবং অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট সিস্টেমগুলোর সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য যে, চলমান এই চরম সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, তারা কেবল সময়ের অপচয় করতে কোনো ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চান না। বরং তাদের দাবি হলো—পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি `সমন্বিত ও স্থায়ী শান্তিচুক্তি` সম্পন্ন করা। তবে বর্তমানে যে রণসজ্জা দেখা যাচ্ছে, তাতে শান্তির চেয়ে সংঘাতের সম্ভাবনাই বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে। তেহরানের রেড এলার্ট পরিস্থিতির দিকে এখন নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন