এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আসন্ন শান্তি আলোচনাকে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এই সংলাপকে সফল করতে তিনি উভয় পক্ষকেই অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাত এড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগকে একটি বিরল সুযোগ হিসেবে দেখছে বিশ্ব সংস্থাটি।
জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। তিনি জানান যে মহাসচিব মনে করেন দুই দেশের মধ্যকার এই কূটনৈতিক জানালাটি কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।
আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী এবং পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হলে তা কেবল এই দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমিয়ে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ফিরতে সংলাপের কোনো বিকল্প নেই বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
গুতেরেসের বার্তা অনুযায়ী, সংঘাত ও যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর ও আধুনিক পথ। আন্তর্জাতিক যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির চেয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর তিনি সবসময়ই জোর দিয়ে আসছেন। তার মতে, এই সমঝোতা প্রক্রিয়া অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে যাতে কোনো পক্ষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়।
এদিকে চলমান এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা করতে এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে মহাসচিবের একজন ব্যক্তিগত দূত বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছেন। তিনি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছেন যাতে আলোচনার প্রক্রিয়াটি কোনো বাধার মুখে না পড়ে। বিশ্বজুড়ে এই বৈঠক নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। জাতিসংঘ মহাসচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে উভয় দেশ এই ঐতিহাসিক সুযোগটি হাতছাড়া করবে না এবং একটি ইতিবাচক ফলাফলের দিকে অগ্রসর হবে। বর্তমানে পুরো আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন এই আসন্ন শান্তি আলোচনার দিকে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন