এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ইরান ইস্যুতে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই অসন্তোষের মুখেও পিছু না হটে পাল্টাজবাব দিয়েছেন পোপ। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক যেকোনো যুদ্ধের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর সোচ্চার অবস্থান অব্যাহত রাখবেন।
সোমবার ১৩ এপ্রিল আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার তথ্য উঠে এসেছে।দশ দিনের আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে আলজেরিয়াগামী একটি ফ্লাইটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ লিও চতুর্দশ তাঁর এই অবস্থানের কথা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এই পোপ বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো ধরণের তর্কে জড়াতে চান না। তবে তাঁর মতে, বর্তমানে গসপেলের বা পবিত্র বার্তার যেভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই সঠিক নয়।
তিনি মনে করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংলাপের প্রসার এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের মাধ্যমেই কেবল যেকোনো সংকটের ন্যায়সঙ্গত সমাধান সম্ভব।পোপ লিও তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের বিভিন্ন সংঘাতে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তিকামী কাউকে না কাউকে শক্তভাবে দাঁড়াতে হবে এবং এর চেয়ে ভালো কোনো পথ এই মুহূর্তে নেই। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, তাঁর (পোপের) দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য চরম ক্ষতিকর।
ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন একজন পোপের ভক্ত নন যিনি পারমাণবিক অস্ত্রের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নমনীয় বা নরম অবস্থান গ্রহণ করেন। মূলত ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে পোপের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের কারণেই ট্রাম্পের এই ক্ষোভ।সম্প্রতি পোপ লিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছিলেন এবং ট্রাম্পের কিছু বক্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
বিশেষ করে যুদ্ধের এক পর্যায়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা ‘একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’ এমন মন্তব্যের পর পোপের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। দুই নেতার এই বাদানুবাদের মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কেন ব্যর্থ হলো, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি দাবি করেছেন, একটি চুক্তির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর মনোভাবের কারণে তা ভেস্তে গেছে। আরাগচির মতে, ওয়াশিংটন আলোচনায় একচুলও ছাড় দিতে রাজি হয়নি এবং বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গত ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই আলোচনায় ইরান অত্যন্ত আন্তরিক ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের রাজনীতিই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আরাগচি মনে করেন, শান্তি স্থাপনের এই সুযোগ হারানোয় মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের গভীরতা আরও বাড়তে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন