শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ

হরমুজ প্রণালিত

ইরানের বন্দর ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধ করা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির বিপরীতে ফুঁসে উঠেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক জলপথটি বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইউরোপ থেকে শুরু করে এশিয়ার দেশগুলো। 

সোমবার ১৩ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও জোটগুলোর দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে অযৌক্তিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত এই ইস্যুতে সবচেয়ে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে স্পেন। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রোব্লেস সরাসরি ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন যে, এ ধরণের অবরোধের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই এবং এর কোনো মানে হয় না। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে স্পেনের এই অবস্থান বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। 

অন্যদিকে এশিয়ার পরাশক্তি চীন এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে শান্ত থাকার ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ ও বিশ্ব বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালি সবসময় উন্মুক্ত রাখা উচিত।দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট আসিয়ানও এই ইস্যুতে নীরব থাকেনি। জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এশিয়ান নেতারা মনে করেন, কোনো একক রাষ্ট্রের খামখেয়ালিপনায় বৈশ্বিক সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের এই একপাক্ষিক ঘোষণার জোরালো প্রতিবাদ এসেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা বিশ্ব অর্থনীতির প্রাণশক্তি এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

এই সংকট নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। ইইউ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিপক্ষে কাজ করবে।এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এই ইস্যুতে আরও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তাঁর দেশ ও যুক্তরাজ্য আগামী দিনগুলোতে একটি জরুরি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করবে। 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্য কোনো অবস্থাতেই এমন কোনো অবরোধকে সমর্থন করছে না যা বিশ্ব বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবরোধের হুমকিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেই এখন বড় ধরণের ফাটল দৃশ্যমান হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।