এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে ১২৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একজন নারীকে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার। প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরণের রদবদলের অংশ হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েলকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
সোমবার ১৩ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। আগামী জুলাই মাস থেকে তিনি দেশটির নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েল বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি বর্তমান প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বলেন, আগামী জুলাই মাস থেকে সেনাবাহিনী একজন নারী প্রধান পাচ্ছে যা দেশের সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা।
এটি অস্ট্রেলিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতারই প্রতিফলন বলে তিনি মনে করেন।দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস সুসান কোয়েলের এই নিয়োগকে একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সুসান কোয়েলের এই অর্জন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত নারী এবং ভবিষ্যতে এই বাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক তরুণীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রমাণ করে যে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাহিনীর যেকোনো স্তরে পৌঁছানো সম্ভব।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে এই হার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশটির সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নারীদের এই অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।একই দিনে নৌবাহিনীর নেতৃত্বেও বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে পদোন্নতি দিয়ে পুরো প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। অন্যদিকে নৌবাহিনীর ডেপুটি প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি নতুন নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে হ্যামন্ডের জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরণের বড় রদবদল অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে এবং কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন গতি আনবে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো অস্ট্রেলিয়ার এই সাহসী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন