সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চীনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে প্রস্তুত রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

চীনের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে প্রস্তুত রাশিয়া

বেইজিংয়ে ল্যাভরভ ও শি জিনপিং

চীনের সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি পূরণে রাশিয়া সর্বাত্মক সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর নৌ-অবরোধের ফলে চীনের জ্বালানি সরবরাহে যে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ল্যাভরভ।আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাভরভ বলেন, “চীনসহ যেসব দেশ আমাদের সঙ্গে ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনকভাবে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য উদ্ভূত সম্পদের ঘাটতি রাশিয়া নিঃসন্দেহে পূরণ করতে পারবে।” 

তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও নানামুখী চাপের মধ্যেও রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক “অটুট” রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী স্থিতিশীলতা তৈরি করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, চীন বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধের কারণে বেইজিংয়ের জ্বালানি সরবরাহ চেইন বড় ধরনের চাপে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, চলমান অবরোধের কারণে বেইজিং যাতে কোনোভাবেই ইরানের তেল কিনতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে তারা হার্ডলাইন অবস্থানে থাকবে।

এই জটিল পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা তেলের ঘাটতি পূরণের এই প্রস্তাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়া এখন চীনের মতো বড় বাজারের ওপর তাদের নির্ভরতা আরও বাড়াতে চায়। অন্যদিকে, চীনও তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে দ্বিধা করবে না বলে মনে করা হচ্ছে। ল্যাভরভের এই সফরের মধ্য দিয়ে মস্কো ও বেইজিংয়ের কৌশলগত মৈত্রী যে আরও দৃঢ় হলো, তা বলাই বাহুল্য।