শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ট্রাম্পের বাধা উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম

ট্রাম্পের বাধা উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

নেতানিয়াহু

লেবাননে ১০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মাঠ। একদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েলকে আর বোমা হামলার অনুমতি দেওয়া হবে না। 

নেতানিয়াহুর দাবি, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নির্মূল করার কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং তাদের রকেট ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

নেতানিয়াহুর এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানের বিপরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‍‍`যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়‍‍`। 

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে লেবাননে ইসরায়েলের এই বোমা বর্ষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন সরাসরি এবং প্রকাশ্য বিরোধিতার মুখে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখন কী পদক্ষেপ নেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বার্তা কেবল একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট নয়, বরং এটি ইসরায়েলের ওপর ওয়াশিংটনের বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপের পরিষ্কার ইঙ্গিত।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে মাত্র শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন সরকার পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই কূটনৈতিক সংঘাতকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। লেবানন সীমান্তে হাজার হাজার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এখন এই দুই নেতার সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।