বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকছে: গালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম

ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকছে: গালিবাফ

অচল হয়ে আছে হরমুজ প্রণালি

ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে না পারে, তবে অন্যদের জন্য এই জলপথ খোলা রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। রোববার ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিশেষ টেলিভিশন বক্তব্যে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। 

গালিবাফ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর জলপথটি ইরানের পূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি নিউজ রোববার (১৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে গালিবাফের এই মন্তব্যের তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেছেন। 

তিনি বলেন, প্রণালিটি পুনরায় সাধারণ জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর চাপানো নৌ অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ার ওপর। যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই একতরফা অবস্থান পরিবর্তন না করে, তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল অবশ্যই সীমিত রাখা হবে।বিশ্লেষকরা বলছেন, গালিবাফের এই মন্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে। হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম প্রধান একটি সরবরাহ রুট বন্ধ থাকার অর্থ হলো আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটা। 

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে একাধিকবার দাবি করা হয়েছিল যে, তাদের নিজস্ব তেল রফতানি যদি মার্কিন চাপের কারণে ব্যাহত হয়, তবে তারা এই আন্তর্জাতিক রুটটি কাউকে ব্যবহার করতে দেবে না।গালিবাফের এই সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক উত্তেজনাকে একটি নতুন এবং আরও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেল। 

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের এই অনড় অবস্থান বিশ্বশক্তির জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক মহলে গভীর আলোচনা চলছে যে, ইরান এই ঘোষণার মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইরানের এই নতুন হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে।