এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা দ্বীপে রোববার ভোরে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। জিএফজেড জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৬ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ১ দশমিক ২৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৭ দশমিক ২১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।
কারণ এখানে প্রায়ই টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, শক্তিশালী এই কম্পনে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।ইন্দোনেশিয়ায় এই ভূমিকম্পের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে সুমাত্রা দ্বীপটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।
এর আগে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই সুমাত্রাতেই ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামি বিশ্বের ১৪টি দেশে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। যা ইতিহাসে `বক্সিং ডে সুনামি` হিসেবে পরিচিত। সেই দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন ১১ লাখের বেশি মানুষ।বিশ্বের শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৬০ সালে চিলির বিওবিও প্রদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এটি `ভালদিভিয়া ভূমিকম্প` নামে পরিচিত। এতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ হাজার ৬৫৫ জন মানুষ।
এছাড়া ১৯৬৪ সালে আলাস্কায় ৯ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। অন্যদিকে, ৫ নভেম্বর ১৯৫২ সালে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলেও সেখানে কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সে সময় সুনামির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ২৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আঘাত হেনেছিল। একইভাবে ২০১১ সালে জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপে ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর সুনামিতে ১৮ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
ভূ-তাত্ত্বিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় `রিং অব ফায়ার`-এর ওপর অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া নিয়মিতভাবেই এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। আজকের ভূমিকম্পে কোনো সুনামির সতর্কতা জারি করা না হলেও স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। মূলত সুমাত্রা দ্বীপের এই অঞ্চলটি দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময়ই বেশি থাকে। আজকের ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন