মে ৩, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ইরানকে চাপে রাখতে হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন পাহারায় (এসকর্ট) পার করে দেওয়ার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোফান সেন্টারের বিশ্লেষক কেনেথ কাটজম্যান এই তথ্য জানিয়েছেন।কেনেথ কাটজম্যান বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু না করেই ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার সমাধান খুঁজছেন।
এই কৌশলের অংশ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলোকে মার্কিন এসকর্ট মিশনের মাধ্যমে নিরাপদে পার করে দেওয়ার বিকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। যদি ইরানের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা না যায়, তবে ট্রাম্প সম্ভবত এই সামরিক পাহারার দিকেই এগোবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরাকের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো সরাসরি উপকৃত হবে। তবে ইরানের ওপর আগের মতোই মার্কিন কঠোর অবরোধ বহাল থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, এই এসকর্ট মিশনের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইরানের একচেটিয়া প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।
ইরানকে সতর্ক করে কাটজম্যান উল্লেখ করেন, যদি ইরান এই এসকর্ট মিশনে হামলা চালানোর কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আলোচনার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ট্রাম্পের হাতে আরও অনেক কঠোর সামরিক ও রাজনৈতিক বিকল্প খোলা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী এই অচলাবস্থা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই যাবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কারণ সমুদ্রপথে অবাধ বাণিজ্য ছাড়া ইরানের সামনে খুব কম বিকল্পই খোলা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তাদের তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে, যার ফলে দেশটির সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কাটজম্যানের মতে, এই সংকটের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে কিছুটা অস্বস্তিকর হলেও, ইরানের জন্য এর পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ। মূলত ইরানের তেল রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে তাদের আলোচনার টেবিলে বাধ্য করাই ওয়াশিংটনের এই নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন