মে ১৯, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
নরওয়ের ওসলোতে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নরওয়ের সাংবাদিক হেলে লিং ভারতের সংবাদমাধ্যমের অবস্থা ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন।
আজ মঙ্গলবার ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এই ঘটনার পর ভারতের রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।নরেন্দ্র মোদি অবশ্য নরওয়েজীয় ওই সাংবাদিকের করা প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান।
ঘটনার পরে সামাজিকমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক হেলে লিং লিখেছেন যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সূচকে নরওয়ে বিশ্বের এক নম্বরে থাকলেও ভারতের স্থান ১৫৭ নম্বরে নেমে গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী যেসব দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রাখা হয়, তাদের সরকারকে প্রশ্ন করার অধিকার সংবাদমাধ্যমের অবশ্যই আছে।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি এখনো পর্যন্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন বা উন্মুক্ত সাংবাদিক বৈঠক করেননি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি বাছাই করা নিয়ন্ত্রিত সাক্ষাৎকার বা নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন এবং সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্ন এড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ।এদিকে সোমবার গভীর রাতে নরওয়েতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সিবি জর্জ সংখ্যালঘু অধিকার, মানবাধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মনগড়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভারতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো তোলা হচ্ছে। ভারতের সংবিধান সব নাগরিককে সমান অধিকার ও আইনি সুরক্ষা দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের মতে ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংবাদমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় চাপ এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন