মে ৩১, ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর দেশটির পূর্বাঞ্চলের অন্যতম কৌশলগত ইস্যু ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা’ নতুন করে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘ বছর ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিলম্ব রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয় হয়েই থেকেছে। তবে এখন প্রচলিত স্লোগান ও লোকদেখানোর ঊর্ধ্বে উঠে সরাসরি বাস্তবসম্মত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কেবল প্রতীকী ঘোষণা নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন।
এই নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো কোনো তাড়াহুড়ো না করে পুশব্যাক অভিযানের পরিবর্তে প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা। যথাযথ আইনি যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সূত্রগুলোর দাবি, ভারত এবার এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না যা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ককে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অতীতে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ছাড়া সীমান্তে পুশব্যাক কার্যক্রম নিয়ে ঢাকা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।নয়া দিল্লির এবারের কৌশলটি পূর্বের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আন্তর্জাতিক বিতর্ক এড়াতে অত্যন্ত কাঠামোগত।
ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন যে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জটিল এবং পশ্চিমবঙ্গ অংশের বড় অংশই জনবসতিপূর্ণ এলাকা, কৃষিজমি ও নদীবিধৌত চরাঞ্চল। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে বিএসএফের কাছে প্রায় ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওপার বাংলার সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৬৯৬ কিলোমিটার এলাকায় ইতিমধ্যে বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এখনও প্রায় ৫৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত অরক্ষিত রয়েছে যার মধ্যে ১১২ দশমিক ৭৮০ কিলোমিটার নদী ও জলাভূমি হওয়ায় প্রচলিত পদ্ধতিতে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয় এবং ৪৫৬ দশমিক ২২৪ কিলোমিটার এলাকায় কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে।
এই ভৌগোলিক ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে ভারত এখন মূলত অত্যাধুনিক ‘স্মার্ট ফেন্সিং’ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। ক্যামেরা, তাপ শনাক্তকারী সেন্সর, লেজার ব্যবস্থা, ড্রোন ও রাডার নজরদারির সমন্বয়ে সীমান্ত পর্যবেক্ষণের নতুন আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অবকাঠামো প্রকল্প সম্পন্ন করতে ভারত ধাপে ধাপে এগোলেও পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সূত্র: এনডিটিভি


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন