জুন ১৭, ২০২৬, ১১:৩১ এএম
ইরানের সঙ্গে সাড়ে তিন মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর চরম রাজনৈতিক ও কৌশলগত ব্যর্থতার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তেল আবিবের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র তাদের মতামত ছাড়াই তেহরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মধ্যস্থতা করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এই সংকটকে সাত অক্টোবরের পর দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
দীর্ঘদিনের বৈরিতা সত্ত্বেও ইরান রাষ্ট্রটি এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়েও জোরালো হয়েছে।এই চুক্তির ফলে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে।বছরের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দী গাদি আইজেনকোট এই সমঝোতাকে একটি ব্যর্থ সরকারের হতাশাজনক পরিণতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সরকারপ্রধানের দেওয়া পূর্ণ বিজয়ের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার বিশাল ফারাক রয়েছে।
এমনকি নেতানিয়াহুর নিজস্ব জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং বেজালেল স্মোত্রিচও এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে মার্কিন প্রশাসন ও তেহরানের মধ্যকার এই চুক্তি মেনে চলা ইসরায়েলের জন্য মোটেও সমীচীন হবে না।দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরি করা নেতানিয়াহু এখন নিজেকে এই যুদ্ধ শেষের প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।
সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিকদের মতে, সামরিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং মার্কিন সমর্থন অনুকূলে থাকার পরেও নেতানিয়াহু এই ঐতিহাসিক সুযোগটি নষ্ট করেছেন। লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান নিয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরায়েলকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনের আগে সাত অক্টোবরের বিপর্যয় ও ইরান যুদ্ধের এই ব্যর্থতার বোঝা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন