শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

মহাকাশে কোরআন নেওয়া প্রথম আফগান নভোচারী আবদুল আহাদ আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জুন ২৯, ২০২৬, ০৪:১৪ পিএম

মহাকাশে কোরআন নেওয়া প্রথম আফগান নভোচারী আবদুল আহাদ আর নেই

মহাকাশে পবিত্র কোরআন নিয়ে যাওয়া আফগানিস্তানের প্রথম নভোচারী আবদুল আহাদ মোমান্দ আর নেই। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ জুন ৬৭ বছর বয়সে জার্মানিতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বরেণ্য এই মহাকাশচারীর প্রয়াণে আফগানিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।ইতিহাসের চতুর্থ মুসলিম হিসেবে মহাকাশ জয় করা এই বিজ্ঞানী আফগানদের জন্য এক গৌরবময় অবিস্মরণীয় ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।

১৯৮৮ সালে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযানে যাওয়ার সময় আবদুল আহাদ মোমান্দ নিজের সঙ্গে একটি পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়েছিলেন এবং কক্ষপথে অবস্থানকালে তা ভক্তিভরে তেলাওয়াত করেছিলেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিখ্যাত ‘মির’ মহাকাশ স্টেশনে তিনি টানা নয় দিন অবস্থান করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেন। আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশে জন্ম নেওয়া মোমান্দ পরবর্তীতে স্বদেশে বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধ শুরু হলে সপরিবারে জার্মানিতে পাড়ি জমান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। 

মস্কোর খ্যাতনামা ইউরি গ্যাগারিন বিমানবাহিনী একাডেমিতে অধ্যয়নকালে প্রায় ৪০০ জন যোগ্য আবেদনকারীর মধ্য থেকে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত আটজনের একজন ছিলেন তিনি। পরে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশেষ ‘ইন্টারকসমস’ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেন, যার মাধ্যমে বন্ধুভাবাপন্ন বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত নাগরিকদের মহাকাশে যাওয়ার বিরল সুযোগ দেওয়া হতো।ঐতিহাসিক এই মহাকাশ অভিযানের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিগত ২০১৩ সালে তিনি দীর্ঘ দিন পর নিজের মাতৃভূমি আফগানিস্তানে ফিরে আসেন। 

সে সময় কাবুলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আফগানিস্তানের তৎকালীন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সমবেত হয়ে তাঁকে বর্ণাঢ্য সংর্বধনা প্রদান করেন। এর আগে দেশের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোমান্দ তাঁদের মহাকাশযাত্রার প্রস্তুতির স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের এই মহাকাশযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়েছিল এবং পুরো মিশন ও পূর্বপ্রস্তুতি মিলিয়ে তাঁদের মাত্র ছয় মাস সময় লেগেছিল, যেখানে অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত এই ধরনের জটিল প্রস্তুতিতে ১৮ মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

মোমান্দের এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, মোমান্দ ছিলেন মহাকাশে যাওয়া প্রথম গর্বিত আফগান এবং তাঁর এই কীর্তি চিরকাল দেশকে অনুপ্রাণিত করবে। সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারিসহ কাবুলের সাধারণ বাসিন্দারাও এই গুণী মানুষের বিদায়ে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, আবদুল আহাদ মোমান্দ পুরো জাতির গর্ব ছিলেন এবং বিশ্বদরবারে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। মহাকাশচারী হিসেবে তাঁর এই পৃথিবী থেকে মহাকাশে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক অভিযাত্রা আফগানিস্তানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এবং মানুষের স্মৃতিতে চিরকাল জাগ্রত থাকবে।