জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশে কঠোর বাধা দিয়ে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন হাজারো ইহুদি বসতি স্থাপনকারী। পবিত্র ফজরের নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়ে বয়সের নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল ফটকেই আটকা পড়েন স্থানীয় মুসল্লিরা। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের অনেকেই মসজিদের বাইরে খোলা আকাশের নিচে নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন।আল-আকসা প্রাঙ্গণে দুই হাজারের বেশি মানুষের এই অনধিকার প্রবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইহুদিদের বার্ষিক ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে আল-আকসা চত্বরে প্রবেশ করেন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা। ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দুই হাজার তিনশোর বেশি বসতি স্থাপনকারী এই কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও ওই চত্বরে প্রবেশ করেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন যে নিরাপত্তা বাহিনী প্রবেশপথে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও মুসল্লিকে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং কয়েকজনের ওপর চড়াও হয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেট এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বেন-গভিরের এই প্রবেশকে একটি বিপজ্জনক উসকানি বলে উল্লেখ করেছে। তাদের দাবি, এটি ইসরাইলি সরকারের তরফ থেকে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ডের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ। আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জর্ডান। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ আল-আকসার ঐতিহাসিক ও আইনি বিদ্যমান ব্যবস্থার স্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে এই ধরনের প্রকাশ্য আগ্রাসনের সমস্ত পরিণতি দখলদার ইসরাইল ও তাদের অনুসারীদেরই ভোগ করতে হবে। উল্লেখ্য, দশকের পর দশক ধরে চলে আসা বিদ্যমান ব্যবস্থার অধীনে আল-আকসা প্রাঙ্গণের দেখভাল করে জর্ডানের ইসলামিক ওয়াকফ কর্তৃপক্ষ, যেখানে অমুসলিমদের প্রার্থনা করার অনুমতি নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন