আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার গুরুতর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন ও জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় নব্বই শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এই আকস্মিক ও মারাত্মক হ্রাসের ফলে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।শিপিং গোয়েন্দা সংস্থা কেপলারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে মাত্র তেরোটি জাহাজ এবং রবিবার সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মোটে চারটিতে।যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক জলযান যাতায়াত করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে প্রায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে গত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে সীমিত সংখ্যক জাহাজ বের হওয়া ও প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এই সামগ্রিক সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক, যাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে তেল রপ্তানি আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।পূর্বের স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ত্রিশ লক্ষাধিক ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।
এই অবরুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য বাগদাদ সরকার বর্তমানে তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডানের মাধ্যমে বিকল্প উপায়ে তেল রপ্তানি করার কথা চিন্তা করছে। সিরিয়ার বন্দরে নতুন পাইপলাইন সংযোগ স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকলেও এর পেছনে বিশাল অঙ্কের অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন রয়েছে। আঞ্চলিক এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: শাফাক নিউজ

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন