অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
বেলজিয়ামে শিক্ষা সংস্কারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসসহ দুটি প্রধান শহরে শিক্ষা সংস্কার, সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতি এবং পুলিশের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন কয়েকশ শিক্ষার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্রাসেলসে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বেলজিয়ামের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফের বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাসেলস-মিদি রেলস্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় প্রথম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা কাছাকাছি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অস্থায়ী বেড়া দিয়ে সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে থাকেন। আক্রমণ প্রতিহত করতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে এবং ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সামনের দিকে অগ্রসর হয়।
এর আগে সকালে ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন চত্বরে শিক্ষক ও ট্রেড ইউনিয়নের কর্মীসহ প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সমবেত হন। শুরুতে পুলিশি অনুমতি না থাকলেও পরবর্তীতে তাদের ব্রাসেলস-মিদি স্টেশনের অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং বেশ কয়েকজনকে আটকে দেহ তল্লাশি চালানো হয়।
বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সংকোচনমূলক নীতি ও পুলিশের কঠোর আচরণের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। মূলত গত ৯ অক্টোবর একটি ট্রেড ইউনিয়নের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে হওয়া আগের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরেই শনিবারের এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল।
রাজধানীর বাইরে বেলজিয়ামের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর লিয়েজেও একই দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় বেলগা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, লিয়েজ-গুইয়েমাঁ রেলস্টেশনের বাইরে প্রায় ২৫০ জন তরুণ ও শিক্ষার্থী জড়ো হন। সেখান থেকে একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ মিছিল শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হয়। লিয়েজের এই প্রতিবাদী কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ শ্রমিক ও অভিভাবকরাও অংশ নেন। তারা শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ হ্রাস, অতিরিক্ত টিউশন ফি, গণপরিবহনের অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি, কর্মপরিবেশের অবনতি ও ক্রমবর্দ্ধমান সামাজিক বৈষম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তীব্র অর্থনৈতিক বোঝার কারণে তরুণদের একটি বড় অংশকে এখন পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে। এর ফলে পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে এবং অনেকে বাধ্য হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম অসমাপ্ত রেখেই ঝরে পড়ছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের একটি অংশ একই দিন ফ্রান্সে জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আয়োজিত কর্মসূচির প্রতি নিজেদের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে দিনাজপুর টিভি ডট কম।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন