সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫, ১১:৪৮ এএম
নেপালে চলমান ‘জেনারেশন জেড’ বা ‘জেন-জি’ বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১-এ দাঁড়িয়েছে। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে ২১ জন বিক্ষোভকারী, ৩ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন বন্দি এবং ১৮ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নারীও রয়েছেন। একইসঙ্গে, দেশটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ৫২টি হাসপাতালে ২৮৪ জন আহত ব্যক্তি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এ পর্যন্ত ১,৭৭১ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নেপাল প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মোট ১৪ হাজার ৩০৭ জন বন্দি পালিয়ে গেছে।এই বিক্ষোভের সূচনা হয় সরকার ফেসবুক, এক্স ও ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পর। গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জনতার ওপর গুলি চালালে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়, যার মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থী। যদিও পরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে, পুলিশের গুলিতে নিহতদের প্রতি ক্ষোভ এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষের কারণে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু শীর্ষ নেতার বাড়িতে এবং সংসদ ভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কাঠমাণ্ডু বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কিছু মন্ত্রীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে, গত শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি ছয় মাসের মধ্যে নতুন সংসদীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন