বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

প্লট দুর্নীতিঃ হাসিনা-টিউলিপের ২ মামলার রায় কাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

প্লট দুর্নীতিঃ হাসিনা-টিউলিপের ২ মামলার রায় কাল

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার রায় আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করা হবে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ মোট ৩৬ জন আসামির ভাগ্যে কী ঘটছে, তা কাল সকালে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ রবিউল আলমের আদালতে নির্ধারিত হবে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, পূর্বাচলে ২০ কাঠা সরকারি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল। একটি মামলায় রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়। 

অন্য মামলায় আজমিনা সিদ্দিক, শেখ হাসিনা ও টিউলিপসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে দুদক গত ১০ মার্চ উভয় মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। গত ৩১ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

প্রথম মামলাটির তদন্তে জানা যায়, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ২৮ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। অন্যদিকে, আজমিনা সিদ্দিকের নামে অপর ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দের মামলায় ৩১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার অন্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে রায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা সরকারি বিধিবিধান তোয়াক্কা না করে এবং রাজউকের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অত্যন্ত মূল্যবান এই প্লটগুলো নিজেদের নামে হাতিয়ে নিয়েছিলেন। অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে পলাতক থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনেকে কারাগারে রয়েছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই রায়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।