বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

ঢাবি হলে তোফাজ্জল হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ, গ্রেপ্তারের নির্দেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

ঢাবি হলে তোফাজ্জল হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ, গ্রেপ্তারের নির্দেশ

তোফাজ্জল হত্যা মামলার শুনানি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদেশ প্রদান করেন। 

একই সঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই আদেশের ফলে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি হলো।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই গত ১৫ ডিসেম্বর ২৮ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এর আগে শাহবাগ থানা পুলিশ এই মামলায় ২১ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। তবে সেই তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্তুষ্ট না হওয়ায় তারা নারাজি দাখিল করে। 

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলাটি পুনরায় তদন্ত করে আরও সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। আদালত মঙ্গলবার দীর্ঘ শুনানি শেষে পিবিআইয়ের সেই প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে আটক করে ফজলুল হক হলের গেস্টরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারার এক পর্যায়ে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। 

তবে মানবিকতার সেই অভিনয় শেষে আবারও তাকে দক্ষিণ ভবনের গেস্টরুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। দফায় দফায় নির্যাতনের এক পর্যায়ে তোফাজ্জল অচেতন হয়ে পড়লে পরে তার মৃত্যু ঘটে। এই নৃশংস ঘটনার পর পরদিন শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।

বর্তমানে অভিযুক্তদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে রয়েছেন। এছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে বন্দি আছেন। বাকি ২২ আসামি এখনো পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করে দ্রুত আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।