এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইমন ওরফে এলেক্স ইমনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার ছয় আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রত্যেক আসামিকে চার দিন করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সাঈদ হোসেন শিমুল ওরফে আইয়ুশ, মো. তুহিন বিশ্বাস, মো. রাব্বি কাজী, সুমন ওরফে পাখির পোলা সুমন, মো. রানা এবং রাসেল ওরফে পিচ্চি রাসেল। এর আগে দুপুরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক সাধন কুমার মণ্ডল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানালে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।গত ১২ এপ্রিল বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার বুদ্ধিজীবী রোডের বাঁশবাড়ি এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলা পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিদ্বন্দ্বী কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এলেক্স ইমনকে একা পেয়ে ঘিরে ফেলে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের মা ফেরদৌসী বেগম বাদি হয়ে ১৩ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, একদল যুবক দেশীয় অস্ত্র হাতে অন্য একটি দলকে ধাওয়া করছে। ধাওয়ার একপর্যায়ে ইমন পড়ে গেলে প্রতিপক্ষের সদস্যরা তাকে ঘিরে ধরে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমনের দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া তার হাঁটু, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, নিহত এলেক্স ইমন নিজেও রায়েরবাজার এলাকার একটি কিশোর গ্যাংয়ের হোতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশের নথিপত্রে তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন