বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হামে মৃত শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১০, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম

হামে মৃত শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

হাইকোর্টে রিট দায়ের।

হামে মৃত ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষাসুবিধাসহ হামের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রোববার (১০ মে) মানবাধিকার সংগঠন ল’ অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার ও মো. মাকসুদুর রহমান জনস্বার্থে এই রিট পিটিশন দায়ের করেন। 

বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে রিটটি দাখিল করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইডিসিআরের পরিচালককে এই রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এই কমিটিকে হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা চিহ্নিত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে হাম ও জলাতঙ্ক টিকার মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সাত দিনের মধ্যে হলফনামা আকারে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনাও প্রার্থনা করা হয়েছে।

রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া হামের প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুগুলো অনিবার্য ছিল না বরং টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নীতিগত পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অভাবেই এমন বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। আগে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হলেও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর টিকার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ইউনিসেফ একাধিকবার সম্ভাব্য সংকট ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে সতর্ক করলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে রিটে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত আইসিইউ ও পিআইসিইউ সুবিধার অভাবে বহু শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়নি। অনেক পরিবার এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেও শয্যা না পেয়ে শিশুদের মৃত্যু হতে দেখেছে। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, রাষ্ট্র তার নাগরিকদের, বিশেষত শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এই রিটের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষতিপূরণ নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত শিশুদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন। এর আগে গত ৫ মে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ রিটটি দায়ের করা হয়।