শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

আদালতে এসে মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চাইলেন রামিসার বাবা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২, ২০২৬, ১০:১৯ এএম

আদালতে এসে মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চাইলেন রামিসার বাবা

আব্দুল হান্নান মোল্লা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছেন মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা আব্দুল হান্নান মোল্লা। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে দেশজুড়ে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। 

নিজের একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারানো শোকার্ত বাবা এজলাসে দাঁড়িয়ে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়ে আদালতের কাছে আইনি সুরক্ষার আকুতি জানান।চাঞ্চল্যকর এই ফৌজদারি মামলার প্রথম দিনের শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে সরকারি আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের এক বিশাল উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ মামলার প্রথম দিনে ট্রাইব্যুনালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রদান করবেন। 

এর আগে সকাল পৌনে নয়টার দিকে কঠোর আইন-শৃঙ্খলা নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয়। ট্রাইব্যুনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগ পর্যন্ত দুই আসামিকে আদালত ভবনের অত্যন্ত সুরক্ষিত ঢাকা মহানগর হাজতখানায় বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।গতকাল সোমবার দীর্ঘ আইনি শুনানি শেষে এই দুই নিষ্ঠুর আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড এবং মরদেহ গোপনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল আদালত।

মামলার এজাহার ও পল্লবী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে ৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায় যে একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী ঘাতক সোহেল রানা শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে তার লাশ সম্পূর্ণ বিকৃত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যে নিখুঁত অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই এই ট্রাইব্যুনালে আজ ত্বরিত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।