শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাবা-মা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন বাবা-মা

ঢাকা মহানগর আদালত

রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনালে প্রথম দিনের সাক্ষ্য দিতে গিয়ে গা শিউরে ওঠা লোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পিতা ও মাতা। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আসামিদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে এই প্রথম দাপ্তরিক জবানবন্দি প্রদান করেন মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা এবং তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার।

শুনানির একপর্যায়ে একমাত্র কন্যাসন্তানকে হারানোর তীব্র যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়লে শোকার্ত পিতা আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে তাঁর অসমাপ্ত সাক্ষ্য সম্পূর্ণ করেন।নিজের আদরের নিষ্পাপ শিশুটির এমন বীভৎস ও অকাল মৃত্যুতে আদালত কক্ষের ভেতরে এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ার সময় রামিসার পিতা জানান যে গত ১৯ মে দুপুরে অফিস থেকে জরুরি খবর পেয়ে দ্রুত পল্লবীর বাসায় ফিরে তিনি আসামিদের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে প্রতিবেশীদের ভিড় দেখতে পান। 

পরবর্তীতে ভেতর থেকে মূল তালা খুলে দিলে ঘরের বাথরুমের সামনে ছোপ ছোপ তাজা রক্ত এবং ঘরের স্টিলের খাটের নিচে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখে তিনি ওখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। জেরা চলাকালীন আসামিপক্ষের আইনজীবীর বিভিন্ন কৌশলগত প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি নিজ চোখে যতটুকু প্রত্যক্ষ করেছেন ঠিক ততটুকুই আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।সন্তানের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতেই মূলত এই শোকার্ত দম্পতি আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার অন্য প্রধান সাক্ষী ও রামিসার মা পারভীন আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় থাকা আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে সরাসরি নির্দেশ করে এই নৃশংস ধর্ষণের পর হত্যার মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন যে ঘটনার দিন দরজার নিচে নিজের মেয়ের ছোট জুতো দেখে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাঁরা ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। স্থানীয় পল্লবী থানা পুলিশ এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান যে প্রথম দিনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী একটি নির্দিষ্ট দিন ধার্য করেছে।